বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: চার বছরের মধ্যে দারিদ্রতার হার বেড়েছে সবোর্চ্চ
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 08 Oct, 2025
বাংলাদেশে দারিদ্রতার হার বাড়ছে। দারিদ্রতার হার বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে চলতি বছর ২১ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছবে, যা কভিড-পরবর্তী সময় তথা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের শ্রমবাজারের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, দেশে কর্মক্ষম জনশক্তির মধ্যে যারা কর্মে নিয়োজিত ছিলেন তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ লাখই নারী। এ পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান ও কর্মক্ষম জনসংখ্যার অনুপাত ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ; ২০২৩ সালে ১৯ দশমিক ২ এবং ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
এর আগে দেশে দারিদ্র্য বাড়ার তথ্য দিয়েছিল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিবিএসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২ সালে খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে পিপিআরসির সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের দারিদ্র্য বেড়ে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সংস্থাটির সমীক্ষায় অতিদারিদ্র্যের হার ২০২২ সালে ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে ।
বিশ্ব বলছে, ক্রমাগত উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পরিবারের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে স্বল্প বেতনের শ্রমিকদের ওপর, যাদের প্রকৃত মজুরি ২০২৫ অর্থবছরে ২ শতাংশ কমেছে।
চলতি বছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এলে দারিদ্র্য কমতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।
দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ার কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ার যে প্রয়োজনীয়তা ছিল সেটি হচ্ছে না। গত এক বছরে বিনিয়োগ আসেনি। বিনিয়োগ ছাড়া কোনো দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া দিন দিন বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। যখন দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়বে তখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। আর দাম বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে।
এদিকে, বিশ্বব্যাংক বলেছে, সার্বিক বিবেচনায় মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান আরো নিচের দিকে যাচ্ছে। এর ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। ব্যবসাও প্রসারিত হবে না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্য ক্রমশ: ছোট হয়ে আসছে। এর ফলে বেকারত্ব বাড়ছে। ব্যবসা বাড়লে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে। দারিদ্র্য কমে আসবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
পিপিআরসির গবেষণায় বলা হয়েছে দেশে অতি দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। সরকারি হিসাবেই ২০২২ সালের অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫ দশমিক ৬। ২০২৫ সালে এসে অতি দারিদ্র্য হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫। এর মানে হলো, গত তিন বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। ১৮ শতাংশ পরিবার যেকোনো সময় গরিব হয়ে যেতে পারে।
পিপিআরসি গবেষণায় দেখা গেছে, তিন বছরের ব্যবধানে শহরের পরিবারের মাসিক আয় কমেছে, কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে। শহরের একটি সাধারণ পরিবারের গড়ে মাসিক আয় ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকা। খরচ হয় ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে শহরের একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ৪৫ হাজার ৫৭৮ টাকা।
অন্যদিকে গ্রামের পরিবারের গড় আয় কিছুটা বেড়েছে। গ্রামের একটি পরিবারের গড় আয় ২৯ হাজার ২০৫ টাকা, খরচ ২৭ হাজার ১৬২ টাকা। ২০২২ সালে গ্রামের পরিবারের গড় আয় ছিল ২৬ হাজার ১৬৩ টাকা।
পিপিআরসির তথ্য অনুযায়ী একটি পরিবারের মাসের মোট খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ চলে যায় খাবার কেনায়। একটি পরিবার খাবার কিনতে মাসে গড়ে ১০ হাজার ৬১৪ টাকা খরচ করে। এ ছাড়া প্রতি মাসে শিক্ষায় ১ হাজার ৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১ হাজার ৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১ হাজার ৪৭৮ টাকা ও আবাসনে ১ হাজার ৮৯ টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ খাবার কিনতে ব্যায় হচ্ছে ৫৫শতাংশ। এর ফলে ক্রমশ: দারিদ্রের হার বাড়ছে।
তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে মধ্যবিত্ত আয়ের লোকজন। তাদের অবস্থা এমন নূন আনতে পান্থা ফুরায়।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *
WeRlFREpcSs
MaHbYPNtymCK

